পশ্চিমবঙ্গে জমি কেনা-বেচা বা বাবার জমি নিজের নামে করার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হলো *ওয়ারিশ সার্টিফিকেট (Warish Certificate)* এবং *সাক্ষী (Witness)*। এই দুটো না থাকলে জমির দলিল রেজিস্ট্রি হবে না, মিউটেশনও আটকে যাবে। আজকের প্রতিবেদনl
*১. জমির ওয়ারিশ বা ওরস কী?*
কোনো ব্যক্তি মারা গেলে তার সম্পত্তির মালিক হন তার আইনত উত্তরাধিকারীরা। এই উত্তরাধিকারীদের প্রমাণপত্র হলো ওয়ারিশ সার্টিফিকেট। একে অনেক জায়গায় ওরস সার্টিফিকেটও বলা হয়।
এটি দেয় পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা BDO অফিস। এই সার্টিফিকেটে লেখা থাকে মৃত ব্যক্তির কতজন ওয়ারিশ আছেন, তাদের নাম, সম্পর্ক।
*কখন লাগে?*
- বাবা/মায়ের জমি ছেলেমেয়েদের নামে মিউটেশন করতে
- পৈতৃক জমি বিক্রি করতে
- জমির রেকর্ডে নাম তুলতে
- জমি ভাগ-বাটোয়ারা করতে
*ওয়ারিশ সার্টিফিকেট পেতে কী কী লাগে?*
- মৃত ব্যক্তির ডেথ সার্টিফিকেট
- ওয়ারিশদের আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড
- পারিবারিক একটি আবেদনপত্র
- স্থানীয় মেম্বার বা কাউন্সিলরের সুপারিশ
আবেদন করার ৭ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সার্টিফিকেট পাওয়া যায়।
*২. জমির দলিলে সাক্ষী কেন লাগে?*
জমি রেজিস্ট্রির সময় দুজন সাক্ষী বাধ্যতামূলক। ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন আধার-ভিত্তিক সাক্ষী লাগছে।
*সাক্ষী কারা হতে পারবে?*
- যার বয়স ১৮ বছরের বেশি
- যার বৈধ আধার কার্ড ও প্যান কার্ড আছে
- যিনি রক্তের সম্পর্কের বাইরের ব্যক্তি হলেও ভালো, তবে ভাই বা বাবা সাক্ষী হতে পারবে না। বন্ধু, প্রতিবেশী, পরিচিত কেউ হতে পারবে।
*সাক্ষীর কাজ কী?*
রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে সাক্ষীকে বলতে হয় যে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে তিনি চেনেন এবং নিজের চোখের সামনে টাকা লেনদেন হয়েছে। তার আঙুলের ছাপ ও ছবি তোলা হয়।
*৩. ওয়ারিশ জমিতে সাক্ষী সংক্রান্ত সমস্যা:*
অনেক সময় দেখা যায়, এক ওয়ারিশ জমি বিক্রি করে দিচ্ছে অন্য ওয়ারিশদের না জানিয়ে। পরে সেই জমি নিয়ে কোর্টে মামলা হয়। তাই এখন রেজিস্ট্রি অফিসে ওয়ারিশ জমি বিক্রির সময় সব ওয়ারিশদের উপস্থিত থাকা বা তাদের NOC (অনাপত্তি পত্র) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
যদি ৪ ভাইয়ের মধ্যে ১ ভাই জমি বিক্রি করে, তাহলে বাকি ৩ ভাইকে সাক্ষী হিসেবে বা NOC দিতে হবে। নাহলে সেই দলিল ভবিষ্যতে বাতিল হয়ে যেতে পারে।
*৪. গুরুত্বপূর্ণ টিপস:*
- ওয়ারিশ সার্টিফিকেটে সব ওয়ারিশের নাম ঠিক আছে কিনা দেখে নিন
- সাক্ষী হিসেবে এমন কাউকে নিন যাকে পরে খুঁজে পাওয়া যাবে
- জমি কেনার আগে BL&LRO অফিসে গিয়ে রেকর্ড (পর্চা) চেক করুন
- দালালের মাধ্যমে নয়, সরাসরি উকিল দিয়ে দলিল করুন
*উপসংহার:*
জমির ওয়ারিশ ও সাক্ষী - এই দুটি বিষয় ঠিক থাকলে আপনার জমি নিয়ে ভবিষ্যতে কোনও সমস্যা হবে না। কাটোয়া, বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ - সব জায়গাতেই এখন এই নিয়ম একই। জমি কেনার আগে এই কাগজগুলো ১০০% যাচাই করে নিন।
এই তথ্যটি আপনার কাজে লাগলে শেয়ার করুন। জমি সংক্রান্ত যেকোনো খবরের জন্য চোখ রাখুন http://Ajkerbangla.site

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
Thank you visit again